‘প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিনকে খুন করে বাবা-চাচা’

0
104

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবা, চাচা ও চাচাতো মিলে নির্মম ভাবে খুন করে ৫ বছরের শিশু তুহিন হাসানকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (১৫ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, সোলেমান, সালাতুলসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরের পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। সে নিজেও একটি খুনের মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি। এই মামলার অভিযুক্তরাও আরও বেশ কিছু মামলার আসামি। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তুহিনের বাবা রাতেই ঘর থেকে ঘুমন্ত তুহিনকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হয়ে যায়।
বাড়ির পাশে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে একটি কদম গাছে শিশু তুহিনের লাশ ঝুলিয়ে রাখে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞামাবাদ ও আদালতে দেয়া দুই আসামির স্বীকারোক্তিতে বিষয়টি ফুটে ওঠেছে।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালেদ মিয়ার আদালতে তুহিনের চাচাতো ভাই শাহরিয়ার ও আপন চাচা নাসির উদ্দিন ১৬৪ ধারা জবানবন্দী দিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এটি স্পর্শকাতর মামলা। এজন্য আইজিপি স্যার ও ডিআইজি স্যার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন। আমরা মামলার প্রকৃত রহস্য বের করেছি। কারা হত্যা করেছে, কেন হত্যা করেছে এপুরো বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। পুলিশ দ্রুত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে আসামিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানে সক্ষম হবে।
এমামলায় ৫ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। চাচা নাসির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। মূল পরিকল্পনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা পুলিশ তদন্ত করে বের করবে। দুটি নাম লিখা ছুরি শিশুটির পেটে বিদ্ধ ছিল এগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এছাড়া ফিঙ্গার প্রিন্টও পরীক্ষা করা হবে।
শিশুটি ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমন্ত শিশুকে গভীর রাতে তার বাবা আব্দুল বাছির কোলে তুলে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। শিশুটিকে জবাই দেয়ার সময় বাবার কোলেই ছিল তুহিন। জবাইয়ের পর সবাই মিলে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। কান কাটে, গোপন অঙ্গ কাটে রশি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। শিশুটি চাচী ও চাচাতো বোন আপাদত দৃষ্টিতে এঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে মনে হয় নাই। তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির ও চাচা নাসির উদ্দিন শিশুটিকে প্রথম ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here