সাউথইস্ট ব্যাংকের ১১৫ কোটি টাকা নিয়ে দম্পতি উধাও

0
182

নওগাঁয় সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ১১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এক দম্পতি উধাও হয়েছেন।

ব্যাংকে গচ্ছিত সম্পত্তির মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা নিয়ে তারা ভারতে চলে গেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—নওগাঁ শহরের লিটন ব্রিজ মোড়ের বাসিন্দা ও বগুড়ার জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল আগরওয়াল (৫৬) এবং তার স্ত্রী মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিংয়ের স্বত্বাধিকারী দীপা আগরওয়াল (৪৮)।

গত ৯ অক্টোবর সাউথইস্ট ব্যাংক নওগাঁ শাখার প্রধান কর্মকর্তা কামারুজ্জামান সদর থানায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় অবস্থিত জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল আগরওয়াল এবং মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিংয়ের স্বত্বাধিকারী দীপা আগরওয়াল সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময় ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন করেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের নামে বিভিন্ন ধরনের ঋণ মঞ্জুর করে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, গোপাল আগরওয়ালকে ৮৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী দীপা আগরওয়ালকে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজারসহ মোট ১১৪ কোটি ৯৪ লাখ ২ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই দম্পতির কাছ থেকে ঋণের টাকা আদায় করতে পারেনি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ওই দম্পতি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

এরপর সাউথইস্ট ব্যাংক নওগাঁ শাখা অফিস থেকে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের করেন। ঋণ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ডায়েরিতে অভিযোগ করা হয়।

জেএন ইন্ডাস্ট্রিজের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এটার জন্য সম্পূর্ণ ব্যাংক দায়ী। ব্যাংক যদি এত টাকা না দিতো তাহলে মালিক পেতেন না। গত দুই মাস থেকে আমরা বেতন পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি। আমার মতো আরও ৪৫ জন কর্মচারী বেতন না পেয়ে বাড়িতে চলে গেছে।’

বিমান কুমার নামে আরেক কর্মচারী বলেন, ‘গত ১২ বছর থেকে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। হঠাৎ গত তিন মাস থেকে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর মালিক আর এখানে আসেন না। পরে জানলাম মালিক দেশের বাইরে চলে গেছেন। ব্যাংকের লোকজন এসে এখন কারখানা দখল করে নিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে সাউথইস্ট ব্যাংক নওগাঁ শাখার প্রধান নির্বাহী কামারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। কথা বলতে চাননি ব্যাংকটির অন্য কর্মকর্তারাও। আর দেশে না থাকায় অভিযুক্ত ওই দম্পতির সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই দম্পতির কাছ থেকে ঋণ আদায় করতে পারছে না। এমনকি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না—এসব উল্লেখ করে থানায় একটি জিডি দায়ের করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান নওগাঁ পুলিশের এই কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here