পাগলা মসজিদের দানবাক্সে দেড় কোটি টাকা!

0
248

এবার কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে রেকর্ড পরিমাণ ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৪, ৫৯৮ টাকা পাওয়া গেছে। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর এ পরিমাণ টাকা পাওয়া গেলে। এটিই পাগলা মসজিদ থেকে এ যাবতকালে এক সাথে পাওয়া সর্বাধিক পরিমাণ টাকা। এ আগে এ মসজিদের দান বাক্স থেকে সর্বোচ্চ এক কোটি ১৭ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯ টার দিকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৮টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়। দান সিন্দুক খোলার পর টাকা প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। পরে এগুলো মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ঢলে শুরু হয় টাকা গণনার কাজ। টাকা গণনায় মসজিদ মাদরাসার ৬০ জন ছাত্রশিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। এবার ৩ মাস ১৩ দিন পর মসজিদের দানসিন্ধুকগুলো খোলা হয়।
টাকা গণনা কাজ তদারকি করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মীর মো. আল কামাহ্ তমাল, নির্বাহী মাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান, উবাইদুর রহমান সাহেল, পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শওকত উদ্দীন ভূঞা, রূপালী ব্যংকের এজিএম অনুফ কুমার ভদ্র প্রমুখ। দিনভর টাকা গণনার পর সন্ধ্যার দিকে দানবাক্সে পাওয়া সব টাকার হিসেব পাওয়া যায়।
টাকা গণনার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, ‘মসজিদের সিন্দুক থেকে এবার এক কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৮ টাকা পাওয়া গেছে। টাকাগুলো বান্ডেল করে পুলিশ প্রহরায় স্থানীয় রুপালী ব্যাংকে মসজিদের হিসেবে জমা করা হয়েছে।’
গত ১৩ জুলাই পাগলা মসজিদের দান বাক্স থেকে এক কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। সেই সাথে আছে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার। এর আগে গত ১৩ই এপ্রিল দানকাক্স খোলার পর এক কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ২শ’ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
কিশোরগঞ্জের শহরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে ইবাদত বন্দেগি করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বরাবরই আলোচনায় এ মসজিদের কয়েকটি সিন্দুকে দর্শনার্থীদের দান করা টাকা আর অন্যান্য জিনিসের পরিমাণ নিয়ে। তিন মাস পর পর এ মসজিদের দানসিন্দুক খোলা হয়।
এ মসজিদের মানত করলে মানুষের মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এ বিশ্বাস থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এ মসজিদের ৮টি বড় লোহার দানবাক্সে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, বিদেশি মুদ্রাসহ অন্যান্য জিনিস দান করেন। এ ছাড়াও মোমবাতি, ইসলামিক গ্রন্থ, গরু, ছাগল, মুরগি, চাল-পালসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি দান করেন অনেকে।
জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এ মসজিদটি পরিচালিত হয়ে আসছে। মসজিদের আয় থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা পরিচালনাসহ অসুস্থ্য এবং অসহায় মানুষকে এ মসজিদের আয় থেকে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here