যে ৬ কারণে হঠাৎ সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি!

0
50

এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এসময়ে ভুল রাজনীতি এবং ভুল নির্দেশনায় প্রায় বিপর্যস্ত দলটি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম, জ্বালাও-পোড়াও করেও সফল হতে পারেনি তারা। প্রায় দুই বছর হতে চললো কারাবন্দি দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কিন্তু সেই দলটিই কিনা গত এক থেকে দেড় মাসে হঠাৎ করে বেশ চাঙ্গা।

এই সময়ের মধ্যে বিএনপি থেকে শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তার আচড় লাগেনি মাঠ পর্যায়ে। বরং নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিসফাস আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, এখনই সময় আন্দোলন গড়ে তোলার। গোপনে-প্রকাশ্যে বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার বিরোধী বড় আন্দোলনের জন্য। গত দুইদিনে তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে বলতে দেখা গেছে ২৮ তারিখ (বৃহস্পতিবার) খালেদা জিয়ার জামিন না হলে সরকা্রের পতন ঘটবে। হঠাৎ করে বিধ্বস্ত দলটির এমন আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার পেছনের কারণ কী?

সম্প্রতি এক সমাবেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষমতাসীনদের আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিয়েছেন, এরপর সমাবেশ করতে সরকারের অনুমতি নেবে না। ফখরুলের ঘোষণার একদিন পরেই গতকাল সুপ্রীম কোর্টের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বিএনপির অনড় ও মারমুখী আচরণ দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপি কি তবে এখন আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে? হঠাৎ করে দলটি চাঙ্গা হলো কেন?

এছাড়া খালেদা জিয়ার কারামুক্তির কর্মসূচিতে বেশ কিছুদিন ধরেই শক্ত ভাষায় কথা বলতে দেখা গেছে দলটির নেতাদের। কিন্তু হঠাৎ করেই এমন অবস্থান নেয়ার কারণ কী? নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এবং সাধারণ মানুষের মনোভাব যাচাই বাছাই করে মোটা দাগে ৬টি কারণ চিহ্ণিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো__

১) দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনঅসন্তোষ: গত ১১ বছরের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে সরকার। এই অস্বস্তির প্রধান কারণ হল, দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণের অসন্তোষ। বিশেষ করে পেঁয়াজের লাগামহীন উর্ধ্বগতি এবং পেঁয়াজের সাথে তাল মিলিয়ে অন্যান্য পণ্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অস্বস্তি এবং অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। বিএনপি এই অস্বস্তি এবং অসন্তোষকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে কাজে লাগাতে চাচ্ছে। তারা মনে করছে, এখন জনমনে সরকারের সম্পর্কে অন্য যেকোন সময়ের থেকে বেশি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তাই এই সময়টাকে তারা কাজে লাগাতে চাচ্ছে।

২) মন্ত্রীদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথাবার্তা: পেঁয়াজ সংকট, প্রবাসী শ্রমিক সংকট, ভারত থেকে পুশইনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লাগামহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী। এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানারকম টেপা-টিপ্পনি চলছে। এটাতে বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছেন যে, সরকারের আগের জনপ্রিয়তা এখন আর নেই। আর তাই সরকারের জনপ্রিয়তায় যখন ভাটার টান সেই সুযোগটা নিতে চাচ্ছে বিএনপি। বিএনপি মনে করছে, এখন যদি রাজপথে আন্দোলন করা যায় তাহলে সহজেই সরকারকে চাপে ফেলা যাবে।

৩) আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা: আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বহুদিন যাবত নির্লিপ্ত। পেঁয়াজ হোক, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি কিংবা অন্য কোন বিষয় নিয়েই আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা যেমন- তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ সেলিম তাদের খুব একটা কথাবার্তা বা মাথাব্যথা নেই। আর বিএনপি মনে করছে, সিনিয়র নেতাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেমন একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এখন যারা মন্ত্রী বা প্রভাবশালী নেতা আছেন তাদের সেই জনপ্রিয়তা নেই। তাই এখন যদি সরকার বিরোধী আন্দোলন করা যায় তাহলে তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

৪) আওয়ামী লীগ জোটের সমস্যা: নিরবেই আওয়ামী লীগ একা হয়ে গেছে। ৭ জানুয়ারি গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ তাদের শরিকদের বাদ দিয়েছে। শরিকরা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ না করলেও কান পাতলে তাদের দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়। আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছে বিএনপি ও জামায়াত। বিশেষ করে এখন যেহেতু ১৪ দলীয় জোট থেকেও না থাকার মতো। বিএনপি মনে করেছ একা আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করার এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

৫) শুদ্ধি অভিযান নিয়ে আওয়ামী লীগের গুটিয়ে যাওয়া: আওয়ামী লীগের যারা মাঠের কর্মী তাদের একটি বড় অংশই নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে। শুদ্ধি অভিযানের পর আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ জেলে অথবা আত্মগোপনে। তারা দলের জন্য ভালো সংগঠক বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের অনুপস্থিতির জন্য মাঠে লড়াই করার শক্তি আওয়ামী লীগ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করে বিএনপি। আর সেজন্যই তারা মনে করছে, এখন যদি সরকার বিরোধী একটি আন্দোলন করা যায় তাহলে সহজেই সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যাবে।

৬) ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের উষ্ণতা কমতে শুরু করেছে। আর তাই এখন যদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় তাহলে হয়তো ভারত বা আন্তর্জাতিক মহল আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেবে না। সেটা বিএনপির জন্য একটা বড় স্বস্তির কারণ বলে মনে করছে বিএনপি।আর এই সবকিছুর প্রেক্ষাপটেই বিএনপি মনে করছে যে সরকার বিরোধী একটা আন্দোলন গড়ে তোলার এখনই সময়। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি নেতারা আহ্বান জানাচ্ছেন, একতাবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতি নিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here